কিভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করবেন???

বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করব ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধ করা।  ব্লাড ক্যান্সার এটা এমন একটা শব্দ যে নামটা শুনলে সবাই আঁতকে উঠে। বন্ধুরা আতঁকে ওঠার কারণ অবশ্যই আছে। কারন চিকিৎসাবিজ্ঞান এত উন্নত হওয়ার পরেও এখনো ১০০ পার্সেন্ট নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে প্রতিকার করার। কারণ ক্যান্সার রোগ প্রথম দিকে ধরা পড়লে কিছুটা প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা থাকলেও ফাইনালে গেলে সেটা সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এখনো দুস্কর।

তার পরেও আমাদের যেহেতু এর চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে হাতের নাগালে নেই তাই এর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।

এখন আজকে আমরা জানবো কিভাবে আমরা ব্লাড ক্যান্সার কে প্রতিরোধ করতে পারি। এর কিছু পদক্ষেপ আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

  • ধূমপান না করা।

 

ধূমপান শুধু যে ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম কারণ এমনটি নয়, এটি > >

  • খাদ্যনালী,
  • স্বরযন্ত্র,
  • মুখগহ্বর,
  • গলা,
  • কিডনি,
  • মূত্রথলি,
  • অন্য সময় পাকস্থলি,
  • জরায়ু, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারের কারণ ও হতে পারে। আমেরিকান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্লেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সার হতে পারে তার ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে ধূমপান ও তামাক এর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। তাই আর দেরি না করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে প্রথম ধাপে আমাদের যে কাজটি করতে হবে, সেটি হল ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। কোন ধরনের তামাকের প্রতি আসক্তি থাকলে আমাদের সেই আসক্তি আজকে থেকে এড়িয়ে চলতে হবে। ধূমপানের কারণে নিজের শরীরটাকে শুধু খারাপ করছেন তা কিন্তু নয় আপনার সিগারেটের ধোঁয়া আপনার সাথে সাথে আপনার প্রিয়জনদের কে ও আপনি ক্যানসারের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

 

  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে যে কাজটা আমাদের করতে হবে সেটি হল ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন অর্থাৎ স্থুলতা যাদের আছে তাদের সচেতন হওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত ওজন ওয়ালা ব্যক্তিরা ব্লাড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত ওজন নীরবে আপনার খাদ্যনালী, গলব্লাডার, লিভার, লসিকা গ্রন্থি ও ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কে অনেক গুণে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বাড়তি ও অতিরিক্ত ওজন জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে স্থূলতা যে প্রদাহ সৃষ্টি করে যা পরবর্তীতে সকল ধরনের ক্যান্সার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়।

 

  • এরপরে আমাদের যে কাজটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে করতে হবে সেটি হল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের উচিত সবসময় খাবারের তালিকায় টাটকা ফলমূল শাকসবজি সমন্বয় ঘটায় । অর্থাৎ প্রাকৃতিক খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলা সকল ধরনের টিনজাত খাদ্য এবং ফাস্টফুড খাদ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। প্রক্রিয়াজাত শস্যদানার বদলে পূর্ণ শস্যদানা খাওয়া উচিত। আমাদের সাথে সাথে গরুর মাংস, খাসির মাংস প্রক্রিয়াজাত করা মাংস একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত। আর অতিরিক্ত লবণ ও চিনি যুক্ত খাবার থেকে শতহস্ত দূরে থাকা দরকার। এই ধরনের খাদ্যভ্যাস যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি তাহলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।

 

  • এর পরে যেই কাজটা আমাদের করতে হবে সেটি হল সকল ধরনের রান্না আমরা অল্প আছে করব। সব সময় কম আঁচে রান্না করা ভালো। কারণ উচ্চ আমিষ যুক্ত খাবার গুলো যদি আমরা বেশি আছে রান্না করি তাহলে তার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

 

  • ব্যায়াম নিয়মিত করতে হবে। ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বন্ধুরা ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনের এমন একটি অভ্যাস যেটা আমরা অলসতার কারণে করিনা। কিন্তু এই ব্যায়াম যদি আমরা প্রতিদিন করতে পারি হাজার রোগ থেকে আমরা নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব। তার সাথে সাথেই নিজেদের কে সুন্দর সুদর্শন ও কম বয়সের দেখাতে পারব। এই ব্যায়াম যেমন হাজার রোগ থেকে আমাদের নিরাপদ রাখে তাই এর সাথে সাথে ব্লাড ক্যান্সার থেকে শুরু করে জীবনঘাতী এই ধরনের রোগ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে। তাই আমাদের উচিত আমাদের প্রতিদিনই ব্যায়াম করা। ক্যান্সার রোগীদের বিশেষত অন্ত্রের ক্যান্সারের যারা ভুগছেন এবং ব্লাড ক্যান্সারে যারা ভুগছেন নিয়মিত ব্যায়াম তাদের নিরাময় প্রক্রিয়ায় একটা ভালো উপকরণ। এছাড়াও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়ে যতগুলো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে তার প্রায় সবটাই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। ফুসফুস ক্যান্সার জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধেও এই ধারণাটি একেবারে সত্য।

 

  • এখন আমাদের যে কাজটি করতে হবে সেটি হল তেজস্ক্রিয় তার প্রভাব মুক্ত থাকতে হবে। দেহের অভ্যন্তরে কোনো টিউমার সন্দেহে কিংবা অন্য রোগের বেলায়ও এখন ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে সিটিস্কিন। কিন্তু চিকিৎসক ও রোগী সবারই জানা জরুরী একবার সিটি স্কিন করতে গিয়ে আপনাকে বেশ ভালোরকম তেজস্ক্রিয়তার মুখোমুখি হতে হয়, যা আপনার ক্যান্সার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। এই তেজস্ক্রিয় মুক্ত পদ্ধতি যেমন আলট্রাসনোগ্রাফি, এম আর আই, এই পদ্ধতি বেছে নেওয়ায় নিরাপদ। কারণ তেজস্ক্রিয় মুক্ত থাকা আমাদের জন্য খুব বেশি জরুরি। পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন সিটি স্কিন এর মত পদ্ধতি গুলো। আর যদি সেগুলো করতেই হয় তবে এর সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করে তারপরে করান।

 

এখন আমাদের যে বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, উপরে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যদি আমরা মানিয়ে নিতে পারি বা অনুসরণ করতে পারি আমরা ব্লাড ক্যান্সার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভয়াবহ রোগ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে পারব।